উত্তরঃ
ইমাম আবুল হাসান খারকানী (র.) এর পুরো নাম ছিল আবুল হাসান আলী ইব্নে আহমদ। তিনি পারস্যবাসী সূফীগণের অন্যতম ছিলেন। তার গ্রামের নাম ছিল খারকান। এর দিকেই সম্পর্কীত করে তাকে খারকানী বলা হতো। খারকান হচ্ছে ওরগান অভিমুখী সড়কে অবস্থিত বিস্তামের উত্তরের পার্বত্য এলাকা। তিনি অতি সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। কিশোর বয়সে পরিবারের পশু পালনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘকাল কঠোর সাধনার পর তিনি আধ্যাতিকতার উচ্চ স্তরে উপনীত হয়েছিলেন। তাঁর আধ্যাতিকতায় আকৃষ্ট ও বিমোহিত হয়ে বহু দ্বীনদার লোক তার খানকায় ভীড় জমাতো। তার সমসাময়িক প্রখ্যাত সূফী দরবেশগণও তার নিকট প্রায়ই আসতেন। আব্দুল্লাহ আল আনসারী আল হারাবী, আবুল কাযিম আল কুশাইরী, আবু আলী ইবনে সীনা ও সুলতান মাহমুদ গজনবী তার সমসাময়িকদের অন্যতম ছিলেন।
১০৩৩ সালে ৭৩ বৎসর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন। তাঁর মাযার শরীফ কোথায় অবস্থিত এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক বর্ণনা মতানৈক্যপূর্ণ। কেউ কেউ লিখেছেন, বিসতামে তার মাযার স্বীয় উস্তাদের কবরের পাশে অবস্থিত। আবার অনেকের মতে খারকানেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে।
তার স্ত্রী অত্যন্ত কর্কষভাষী ও বদমেজাজী ছিলেন। প্রায়শঃ তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করতেন। তিনি সর্বদাই তা সহ্য করত তাকে নিয়েই সংসার যাপনে তৃপ্তি অনুভব করতেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে হিংস্র প্রাণী বাঘের উপর সওয়ার হওয়ার অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছিলেন।
(ইসলামী বিশ্বকোষ, ত্বরীকে বেলায়েত, রিসালায়ে কুশাইরীয়া)।
